গণমানুষের সাথে
পোর্টাল: gonabarta.com | প্রিন্টের সময়: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
প্রেম ভেঙে গেলে মিলবে বেতনসহ ৭ দিনের ছুটি
কর্মক্ষেত্রে প্রচলিত ছুটির ধারণায় এক অভিনব পরিবর্তন এনেছে ভারতের বেঙ্গালুরুভিত্তিক ফিনটেক স্টার্টআপ ‘স্টকগ্রো’ (StockGro)। কোনো গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভাঙা কিংবা বিবাহবিচ্ছেদের মতো কঠিন আবেগিক ধাক্কা সামলাতে কর্মীদের জন্য সাত দিনের বিশেষ ছুটি ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সাধারণত করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে অসুস্থতা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, বার্ষিক ছুটি বা পারিবারিক শোকের মতো বিষয়গুলোকে ছুটির যৌক্তিক কারণ হিসেবে ধরা হয়। তবে ব্যক্তিগত জীবনের এই ধরনের মানসিক ট্রমাকে গুরুত্ব দিয়ে আলাদা ছুটির নীতি চালুর ঘটনা বেশ বিরল। স্টকগ্রোর এই উদ্যোগটি ইতোমধ্যে করপোরেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই নীতির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
* সম্পূর্ণ বিশ্বাসের সম্পর্ক: এই ছুটি নেওয়ার জন্য কর্মীদের কোনো ধরনের প্রমাণ বা নথি জমা দিতে হয় না। পুরোপুরি পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে এই নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে।
* জিজ্ঞাসাবাদের ঝামেলা নেই: ছুটি নেওয়ার সময় কর্মীকে কোনো অস্বস্তিকর বা ব্যক্তিগত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় না।
* ছুটি বাড়ানোর সুযোগ: সাত দিনের ছুটি শেষ হওয়ার পরও যদি কোনো কর্মীর অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয়, তবে তিনি ব্যবস্থাপনার (Management) সঙ্গে আলোচনা করে ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
এ বিষয়ে স্টকগ্রোর প্রতিষ্ঠাতা অজয় লাখোটিয়া জানান, তাঁরা তাঁদের কর্মীদের শুধু কর্মী হিসেবে দেখেন না, বরং পরিবারের সদস্যের মতোই বিবেচনা করেন। তাই জীবনের যেকোনো কঠিন ও আবেগঘন সময়ে কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোকেই তাঁরা কোম্পানির দায়িত্ব বলে মনে করেন। কাজে ফেরার আগে কর্মীরা যেন মানসিকভাবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পান, মূলত সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্টকগ্রোর এই ব্যতিক্রমী নীতিটি নিয়োগকর্তাদের সামনে একটি নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে—কর্মীর ব্যক্তিগত জীবনের বড় কোনো মানসিক আঘাত বা কষ্টকে কি কর্মক্ষেত্রে ছুটির একটি যৌক্তিক কারণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ের সঙ্গে করপোরেট সংস্কৃতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।