গণমানুষের সাথে
পোর্টাল: gonabarta.com | প্রিন্টের সময়: ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
ছেলে বেঁচে নেই, এইচএসসির ফল দেখে বাবার বুকভাঙা কান্না |
ফল এসেছে , কিন্তু নেই সে নিজে। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল মিনহাজুল ইসলাম রোজান। কিন্তু পরীক্ষার ফল দেখার সুযোগ হলো না তার। ঐচ্ছিক বিষয় অর্থাৎ জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগেই মৃত...
ফল এসেছে, কিন্তু নেই সে নিজে। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল মিনহাজুল ইসলাম রোজান। কিন্তু পরীক্ষার ফল দেখার সুযোগ হলো না তার। ঐচ্ছিক বিষয় অর্থাৎ জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগেই মৃত্যু হয় ওই শিক্ষার্থীর। শনিবার ছেলের পরীক্ষার ফল দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, মিনহাজুল ইসলাম রোজান জীববিজ্ঞান বাদে অন্যান্য বিষয়গুলোতে জিপিএ ৪ দশমিক ৩৩ পেয়েছে। তবে জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় শুধু এই বিষয়টিতে অকৃতকার্য দেখাচ্ছে।
ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থী ছিল রোজান। গত ১২ আগস্ট এইচএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। এরপর হাসপাতালে টানা ১০ দিন লাইফ সাপোর্টে ছিল রোজান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ছেলের ফল প্রকাশের দিনে তাই বাবা সাজ্জাদুল মিরাজের মন আনন্দের বদলে শোকের স্মৃতিতে ভারী হয়ে উঠেছে। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘ছেলের ফলাফল বের হয়েছে। আজ ওর কথা খুব মনে পড়ছে। অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে ও দুটি ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। পরীক্ষা দিতে পারলে ওর ফলাফল আরও ভালো হতো।’
স্কুলের এক শিক্ষক রোজানের ফলাফলের কাগজ পাঠিয়েছেন বাবা সাজ্জাদুল মিরাজকে। ফল দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। তিনি বলেন, চতুর্থ বিষয় বাদ দিয়ে তার ফল জিপিএ ৪ দশমিক ৩৩ হয়েছে। জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এ বিষয়ে এ প্লাস পেলে তার চূড়ান্ত ফলাফল হতো জিপিএ ৪ দশমিক ৮৩।
আজ ছেলের সেই অসম্পূর্ণ স্বপ্নের মার্কশিটটি হাতে নিয়ে কেবল শূন্যতা হাতড়ে বেড়াচ্ছেন বাবা-মা। ফ্রেমে বন্দী হাসিমুখের ছবি আর ফেলে আসা স্মৃতির দিকে তাকিয়ে পরিবারের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ।