গণমানুষের সাথে
পোর্টাল: gonabarta.com | প্রিন্টের সময়: ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
ভারতে হোস্টেলের ট্যাংকে মৃত বানর, পানি খেয়ে ৫৪ শিক্ষার্থী হাসপাতালে
আসাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (এইসি) একটি হোস্টেলের পানির ট্যাংকে মৃত বানর পাওয়ার পর ৫৪ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গুয়াহাটির ওই কলেজের ৭ নম্বর হোস্টেলে দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের পর শিক্ষার্থীরা পেটে ব্যথা, বমি ও জ্বরে আক্রান্ত হন। পরে চিকিৎসার জন্য তাদের সরকারি আয়ুর্বেদিক কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
১ মিনিট আগেআসাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (এইসি) একটি হোস্টেলের পানির ট্যাংকে মৃত বানর পাওয়ার পর ৫৪ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গুয়াহাটির ওই কলেজের ৭ নম্বর হোস্টেলে দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের পর শিক্ষার্থীরা পেটে ব্যথা, বমি ও জ্বরে আক্রান্ত হন। পরে চিকিৎসার জন্য তাদের সরকারি আয়ুর্বেদিক কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পানির মান নিয়ে বারবার অভিযোগ করার পরও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বাধ্য হয়ে গত রবিবার (১ নভেম্বর) শিক্ষার্থীরা নিজেরাই ছাদের ওপর থাকা পানির ট্যাংক পরীক্ষা করতে যান। সেখানে একটি ট্যাংকের ভেতর পচে যাওয়া একটি মৃত বানর দেখতে পান তারা। এই পানি দিয়েই শিক্ষার্থীরা পান করা থেকে শুরু করে গোসল, দাঁত মাজা ও বাসন ধোয়ার কাজ করছিলেন।
শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি মৃত্যুঞ্জয়ন জানান, দুর্গা পূজার ছুটির পর হোস্টেলে ফেরার পরেই তারা পানির এই সমস্যা টের পান। পানিতে দুর্গন্ধ পেয়ে হোস্টেলের কেয়ারটেকারকে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। শুরুতে অনেকে ভেবেছিলেন খাবারের কারণেই হয়তো পেটের সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে একদল শিক্ষার্থী নিজেরাই ট্যাংক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন।
মৃত্যুঞ্জয়ন অভিযোগ করে বলেন, ‘ট্যাংকে বানর পাওয়ার আগেই দুর্গন্ধযুক্ত পানির কথা হোস্টেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি।’ তিনি আরও জানান, কয়েকজন শিক্ষার্থীর অবস্থা বেশ গুরুতর ছিল। তার দুই-তিনজন বন্ধুকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। একজনকে স্যালাইন দেয়া হয়েছে এবং সে ঠিকমতো হাঁটতেও পারছিল না। এই ঘটনার কারণে শিক্ষার্থীদের আসন্ন ক্যাট পরীক্ষাও পিছিয়ে গেছে।
এইসি-র অধ্যক্ষ ড. অমৃতা গাঙ্গুলি জানান, শিক্ষার্থীদের পেটের সমস্যার খবর পাওয়ার পর প্রশাসন পানির ট্যাংক পরিষ্কার করেছে এবং শিক্ষার্থীদের মেস অন্য একটি হোস্টেলে সরিয়ে নিয়েছে। তার দাবি, প্রাথমিকভাবে ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী আমাশয়ের মতো সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি জানান, আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কাউকেই হাসপাতালে ভর্তি বা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়নি। শিক্ষার্থীরা এখন সুস্থ আছেন এবং ক্লাসে ফিরছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে সরকারি আয়ুর্বেদিক কলেজের অধ্যক্ষ ড. প্রণব জ্যোতি বৈশ্য নিশ্চিত করেছেন যে এই ঘটনার পর ৫৪ জন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। জরুরি বিভাগে পরীক্ষা করে তাদের পেটে ব্যথা, বমি ও জ্বরের চিকিৎসা দেয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনজনকে অন্য কোথাও পাঠানো হয়েছে, বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। ড. বৈশ্য জানান, সবাই স্থিতিশীল আছে।
এদিকে পানির ট্যাংকের এই ঘটনার পর কলেজ ক্যাম্পাসে বানরের উপদ্রবের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ড. গাঙ্গুলি জানান, কলেজের পেছনের পাহাড়ে বিপুল সংখ্যক বানর বাস করে। খাবারের সন্ধানে, বিশেষ করে দুপুরের দিকে তারা প্রায়ই ক্যাম্পাসে নেমে আসে। ৩০০ থেকে ৪০০ বানরের দল ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীকে বানর কামড়ানোর পর তাকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
অধ্যক্ষ জানান, এ সমস্যা সমাধানের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ বন বিভাগকে দুই-তিনবার চিঠি দিয়েছে। ক্যাম্পাসের ভেতরে বেশ কয়েকটি হোস্টেল থাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসন উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান বানরের উপদ্রব সামাল দেয়ার মতো লোকবল বা যন্ত্রপাতি কলেজের নেই।’ বন বিভাগকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।