গণমানুষের সাথে
পোর্টাল: gonabarta.com | প্রিন্টের সময়: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
সাইফা সবসময় একটু চুপচাপ স্বভাবের মেয়ে।
বিষয়ে: "আড়ালে" সাইফা সবসময় একটু চুপচাপ স্বভাবের মেয়ে। বন্ধুরা হাসে, আড্ডা দেয়, ছবি তোলে—কিন্তু ও যেন সবসময় ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকে। কেউ জিজ্ঞেস করলে, ও শুধু হাসে, বলে— “আমার হাসিটাই আমার উত্তর।” কেউ বুঝতে পারে না, সেই হাসির আড়ালে কতটা নীরব ব্যথা লুকিয়ে আছে। একসময় সাইফা খুব প্রাণবন্ত ছিল। গান গাইত, কবিতা লিখত, বন্ধুদের জন্য সারাদিন ব্যস্ত থাকত। কিন্তু একদিন ওর জীবনে এমন কিছু ঘটল, যা তাকে নিঃশব্দ করে দিল। ও যাকে সবচেয়ে বিশ্বাস করেছিল, সেই মানুষটাই ওর বিশ্বাস ভেঙে দিল। কথায় বলেছিল, “আমি তোমার পাশে থাকব”, কিন্তু বাস্তবে সবাই একে একে দূরে চলে গেল। সেদিন সাইফা বুঝল—মানুষ প্রতিশ্রুতি দেয় সহজে, কিন্তু পাশে থাকার সাহস রাখে না। এরপর থেকে ও নিজেকে বদলে ফেলল। ফেসবুকে, ইনস্টাগ্রামে, সবাই খুশি সাইফাকে দেখে, কিন্তু কেউ জানে না সেই খুশির পেছনে কতটা একাকিত্ব আছে। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ও আয়নায় তাকিয়ে বলে। “আমি এখনো হাসি, কারণ কাঁদলে কেউ বুঝবে না কেন কাঁদছি। আর আমি ব্যাখ্যা দিতে ক্লান্ত।” ও শিখেছে — সব অনুভূতি সবাই বুঝবে না, আর সব কান শুনতে পায় না হৃদয়ের কান্না। তাই এখন ও নীরব থাকে, নিজের ছোট জগতে ডুবে থাকে। একদিন ওর সহপাঠী তুলি বলল, “তুমি এত শান্ত, এত নিরব কেন? তুমি কি কাউকে ঘৃণা করো?” সাইফা হালকা হেসে উত্তর দিল, “না, আমি কাউকে ঘৃণা করি না। আমি শুধু নিজেকে ভালোবাসতে শিখেছি, শব্দের ভেতর নয়—নীরবতার ভেতর।” তুলি অবাক হয়ে চুপ করে গেল। ও বুঝল, এই মেয়েটার ভেতরে যে পৃথিবীটা আছে, সেটা শব্দে বোঝানো যায় না। সেদিন সাইফা ডায়েরিতে লিখল— “আমি নিজেকে আড়াল করে রাখি, কারণ আমি জানি—সবাই আমার হাসি দেখতে চায়, কিন্তু খুব কম মানুষ আছে, যারা আমার কান্না বোঝার সাহস রাখে।” শিক্ষণীয় কথা: সবসময় হাসি দেখে কাউকে বিচার করবেন না। অনেক হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে নীরব কান্না। নীরব মানুষরা দুর্বল নয়—তারা বোঝে, কাকে কতটা জানাতে হয়, আর কাকে নীরবতায় বিদায় জানাতে হয়। নীরবতারও একটা ভাষা আছে—যা শুধু তারা বোঝে, যারা সত্যিকারের অনুভব করতে জানে।